সিলেটে ‘সম্প্রীতির’ রাজনীতিতে হঠাৎ বাকযুদ্ধ

সিলেটে ‘সম্প্রীতির’ রাজনীতিতে হঠাৎ বাকযুদ্ধ

ব্রেকিংস ডেস্ক: 

দ্বিতীয় মেয়াদে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আরিফুল হক চৌধুরী। শেষ নির্বাচনেও তিনি বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। কিন্তু বিএনপি সমর্থিত মেয়র হলেও সিলেটের রাজনীতিতে কোন প্রকার প্রতিহিংসার শিকার হতে দেখা যায়নি তাঁকে। বরং সরকার দলের মন্ত্রীরা নগরীর উন্নয়নে সকল রকম সহযোগিতা করে চলেছেন। তিনিও ‘মধ্যম’ অবস্থান ধরে রেখেই এগিয়েছেন কৌশলে। অবশ্য মন্ত্রীদের সাথে আরিফের এমন সখ্যতা সহজ ভাবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মেনে না নিলেও বিভিন্ন সভা সমাবেশে বসতেন এক মঞ্চেই। করতেন খোশগল্প। এসব সভা সমাবেশের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে ‘সম্প্রীতি’ হিসেবেই উল্লেখ করতেন সিলেটের মানুষ। কিন্তু হঠাৎ করে মেয়রের এক বক্তব্যে সিলেটজুড়ে শুরু হয়েছে বাকযুদ্ধ।

গত ৫ সেপ্টেম্বর এম সাইফুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে মৌলভীবাজারে স্মরণসভায় সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘এদের চামড়া এতো শক্ত হয়েছে যে, গণ্ডারের চামড়া থেকে আরও বেশি। এদের গায়েও কিছু লাগে না।’ আর এ বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার শুরু করেছেন তাঁর অনুসারীরা।

তবে মেয়র আরিফুল হকের এমন বক্তব্যে খেপেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। তাৎক্ষনিক নিজের ফেসবুকে একটি পোস্ট করে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন আরিফুল হককে উদ্দেশ্য করে লিখেন, বিগত দিনে নগরের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের দেওয়া বরাদ্দের কথা ভুলে যাওয়া রাজনৈতিক চতুরতা নয়কি?’ আর তাঁর এ পোস্টে মেয়র আরিফুল হকের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান নেতাকর্মীরা।

এদিকে মেয়র আরিফুল হক ৫ সেপ্টেম্বর সাইফুর রহমানের স্মরণ সভায় যে বক্তব্য দেন তাঁর একটি ভিডিওতে দেখা যায় তিনি বলছেন, ‘এই অঞ্চলে সাইফুর রহমানের যে স্মৃতিগুলো থেকে সাইফুর রহমানের নাম মুছে ফেলে দেয়া হয়েছে, তেমনি আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার নামও মুছে ফেলা হয়েছে। আমাদের নেতা শহীদ জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলছে। কিন্তু মুছে ফেললেও মানুষের মুখ থেকে নতুন নাম কিন্তু উচ্চারণ করাতে পারছে না। মানুষ এখনো জানে সেই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সেই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, আজকে যেটা গর্ব করে বলেন—বিভাগীয় স্টেডিয়াম, যা-ই বলেন না কেন এই অঞ্চলে বলতে গেলে অনেক বলতে হবে। আমি শুধু বলবো, এদের সম্পর্কে কিছু বলে লাভ নেই। এদেরকে ধিক্কার দেয়া ছাড়া কোনো বক্তব্য আমার মুখেও আসতেছে না। এদের চামড়া এতো শক্ত হয়েছে যে, গণ্ডারের চামড়া থেকে আরও বেশি। এদের গায়েও কিছু লাগে না।’

এ বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এতোগুলো মামলা নিয়েও এখনো শান্তিতে আছি। কিন্তু তারা বিড়ালের মতো, ইতোমধ্যে ৭০ শতাংশই তাদের স্ত্রী-সন্তানকে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। তাই আমাদের আর বসে থাকলে হবে না। শক্ত আন্দোলনে যেতে হবে। মিটিং মিছিল নয়, সিদ্ধান্ত নিয়ে একটা কঠোর আন্দোলনে নামতে হবে।’

এদিকে আরিফুল হক চৌধুরীর এমন বক্তব্যের পর পরই মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিগত সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো আসাদ উদ্দিন আহমদ নিজের ফেসবুক ওয়ালে লিখেন, ‘দুঃখ হয়, এত সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পরও আপনি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গণ্ডারের চামড়ার সাথে তুলনা করলেন। আর কি পেলে আপনার মধ্যে সামান্যতম কৃতজ্ঞতাবোধ জন্ম নেবে?

অপরদিকে শনিবার বিকালে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মেয়রের এমন বক্তব্যে অসৌজন্যমূলক ও শিষ্টাচার বহির্ভূত উল্লেখ করে সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন বলনে, ‘জনগণই আওয়ামী লীগের শক্তির ভিত্তি। অতীতে আওয়ামী লীগ জনগণকে সাথে নিয়ে বিএনপি-জামাত জোটের নৈরাজ্যিক অগ্নিসন্ত্রাসকে মোকাবিলা করেছে। সিটি মেয়রের ছলচাতুরীর রাজনীতি ও উস্কানিমূলক বক্তব্যের জবাব হচ্ছে আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র ও হুমকি ধামকির রাজনীতিকে ভয় পায় না।’

এদিকে মেয়র আরিফুল হক তাঁর এ বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক মতাদর্শ ও একান্ত রাজনৈতিক বক্তব্য বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি তো কারও নামও উল্লেখ করিনি। আমার রাজনৈতিক মতাদর্শের জায়গা থেকেই আমি যা বলার বলেছি।