সৈয়দ জাকির আহমদ

রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত‍্যের প্রশ্নে প্রকৃত হক্কানী আলিমদের এগিয়ে আসা জরুরী 

রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত‍্যের প্রশ্নে প্রকৃত হক্কানী আলিমদের এগিয়ে আসা জরুরী 

ইলিম ও আমল দুটি কিন্তু ভিন্ন বিষয়। আমরা অনেকেই দূর্ভাগ‍্যবশত ইলিম অর্জন করতে পারি নাই। তবে কোরআন সুন্নার আলোকে আমল করে প্রাত‍্যহিক জীবন যাপনে নিজেকে হক্কানী ভাবধারায় তৈরী করে সে ঘাটতি পুষিয়ে নিয়েছেন অনেকেই। ইলিম অর্জনকারী ব‍্যাক্তির মধ‍্যে অন্তত এ গুনটি থাকলেই আমরা তাদের হক্কানী আলীম বলি। 
আলেমদের প্রতি আমাদের সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সব সময় আছে এবং থাকবে। হক্কানী আলেম, দাড়িওয়ালা এবং পাঞ্জাবী ওয়ালা লোকের সাথ দেখা হলে সব সময় সালাম দিয়েই তাদের শ্রদ্ধা জানাই এরপর কথোপকথন শুরু করি । জীবনে এই পর্যন্ত যত হক্কানী আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ হয়েছে তাদেরকে সম্মান জানিয়ে চেয়ার সামনে এগিয়ে দিয়েছি এবং বসার অনুরোধ জানিয়েছে। তাদের সাথে যতবার দেখা হয় আমার জন্য এবং পরিবারের জন্য দোয়া চাই। এবং আমার ভবিষ্যৎ জীবনে সেটা করে যাব ইনশাআল্লাহ। আমার তৌফিক অনুমান যতটুকু পারি আপ্যায়নের চেষ্টা করি। আলেম এবং যোগ্য ব্যক্তিদের প্রতি সম্মান জ্ঞাপন করা এটা শুধু আমার ব্যক্তিগত অভ্যাস না এ-র সাথ আমার পারিবারিক শিক্ষা জড়িত।  

ঢালাওভাবে আলেম গ্রেফতার ও পুলিশি হয়রানি? 
আমার জানামতে এখন পর্যন্ত কোন হক্কানী আলেমদের ঢালাওভাবে গ্রেফতার ও পুলিশি হয়রানির শিকার হন না-ই। কারণ যদি ঢালাওভাবে গ্রেফতার হতেন তাহলে আমার গ্রাম, থানা,জেলা এবং সিলেট বিভাগে অনেক বড় বড় হক্কানী আলেম আছেন এবং মসজিদের ইমাম আছেন তারা এতক্ষণে জেলে থাকতেন। বাংলাদেশ পুলিশ সব সময় আলেমদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে আসতেছে। আমি উদাহরণ স্বরূপ কয়েকজন দ্বীনদার হক্কানী আলেমের নাম বলতেছি, বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম হক্কানী আলেম নুর উদ্দিন সাহেব গহরপুরী, শায়খুল হাদিস মুফতি আবুল কালাম জাকারিয়া সাহেব সিলেট দরগাহ মাদ্রাসা,কুতুবে জামান আল্লামা আমিন উদ্দিন সাহেব শায়খে কাতিয়া, আব্দুল লতিফ চৌধুরী সাহেবে ফুলতলী এরকম আরো কয়েক হাজার উলামায়ে কেরাম প্রয়াত ও জীবিত আছেন তাদেরকে কিন্তু বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ মন থেকে ভালোবাসে এবং শ্রদ্ধা করে তাদের কখনো পুলিশে নির্যাতন বা হয়রানি  করিনি। তার মানে যারা গ্রেফতার হয়েছেন তারা সবাই সরকার পতনের জন্য বিরোধী দলের প্রোপাগান্ডা হিসাবে  আন্দোলনের সাথে জড়িত। তাই ঢালাওভাবে আলেমদের গ্রেফতার ও পুলিশি হয়রানি বলে অপপ্রচার চালাবেন না। 

জীবননাশ ও জবাই করার হুমকি এবং তার প্রতিবাদ? 
আমাদের সমাজের সর্ব নিন্মতম মানুষকে যদি আপনি বারবার জীবননাশের হুমকি দেন এবং আল্লাহর কসম খেয়ে জবাই করার ধামকি দিয়ে তাহলে কি ওই লোকটা তার জীবন রক্ষার্থে প্রতিবাদ করবে না? আপনারা বিরোধী দলের প্রোপাগান্ডা হিসাবে ইসলামর নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের উস্কানি মূলক বক্তব্য দিয়ে বারবার সরকারপতনের হুমকি দেবেন এবং সরকারকে পালিয়ে যাওয়ার রাস্তা দেবেন না, প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি এমনকি রাষ্ট্রীয় কোনো আইন ও মানবে না, খবর পড়ার সময় দিবেন না, আল্লাহর নামে শপথ নিয়ে বলেন ধরে ধরে জবাই দেবেন। এই ধরনের উস্কানিমূলক এবং উগ্রপন্থী বক্তব্য দিতে থাকবেন তাহলে কি সরকার প্রতিবাদ করবে না? না ঘরে বসে আঙ্গুল চুষবে? ঈমানী কসম খেয়ে বলেন যদি এরকম কেউ আপনাকে এরকম হুমকি দেয় তাহলে কি আপনি তার প্রতিবাদ করবেন? না ঘরে বসে থাকবেন? 

 আন্দোলনের নামে নাশকতা জ্বালাও-পোড়াও এবং পুলিশের প্রতিবাদ? 
আপনারা প্রতি বারই আন্দোলনের নামে নাশকতা জ্বালাও-পোড়াও রাষ্ট্রীয় এবং ব্যক্তিগত সম্পদ নষ্ট করেন। ইসলামের কোন জায়গায় এই ধ্বংসাত্মক এবং জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতির প্রশ্রয় দিয়েছে? পুলিশ আপনাদের থামাতে গেলে আপনারা পুলিশকে গণধোলাই করেন। পুলিশের উপরে সম্পূর্ণ ডাবের ছড়ি দিয়ে  বারবার আঘাত করেন এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রচার করে ভাইরাল করেন এবং বলে বেড়ান বিএনপি যারা করে তারা সাহসী এবং কলিজা বড়, বিএনপি পুনরায় শক্তিশালী হয় মাঠে নেমেছে পুলিশ মেরে তা প্রমান দেন। অপরদিকে হেফাজতে ইসলাম প্রচার করে আলেমদের হাতে জালেম সরকারের পুলিশ বাহিনী কে গণপিটুনি। প্রত্যেক মানুষেরই জীবন বাঁচানোর অধিকার আছে এবং পুলিশ তার জীবন রক্ষার্থে প্রতিবাদ করলে আপনারা উপাধি দিয়ে দেন  ইসলাম বিরোধী আলেমের উপর নির্যাতন করে। এখন আপনি বলেন আপনাকে যদি কেউ মারধর করে এবং আপনার সামনে জ্বালাও-পোড়াও করে তাহলে কি আপনি বসে থাকবেন? না প্রতিবাদ করার চেষ্টা করবেন? আপনি পুলিশের সাথে সদয় এবং বিনয়ের সাথে কথা বলেন দেখবেন পুলিশ ও আপনাকে সম্মান দেবে। 
হেফাজতে ইসলাম এবং রাজনীতি। 
বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া, পাকিস্তান এবং এশিয়ার বিভিন্ন রাজনৈতিক বিরোধী দলের সংগঠন যে বা যারা রাজনৈতিক আন্দোলন সংগ্রাম প্রচার এবং প্রসার করে, প্রত্যেকটা দলই শহরের বিভিন্ন বড় বড় রাস্তা গুলো বেরিকেড দেয় এবং বিপুল পরিমাণ লোক সংখ্যা একসাথে জড়ো হয়ে এবং প্রচুর যানজট সৃষ্টি হয়, যার ফলে সব সময় সাধারণ মানুষ ভোগান্তি হিসেবে খেসারত দিতে হয়। যারা আন্দোলন করে তাদের অনেক ফায়দা হয় এর ফলে আন্দোলন আরো শক্তিশালী হয়। আপনি বলেন জনগণের অধিকারের জন্য আন্দোলন করতেছেন, তাহলে রাস্তায় ব্যারিকেড করে জনগণকে ভোগান্তি কেন দেন? সরকার সাধারণ জনগণের জান ও মালের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য আন্দোলনরত সকল মানুষকে পুলিশের ধারা অনুরোধ করে, যাতে জনগণকে ভোগান্তি না দিয়ে রাস্তা থেকে সরে দাঁড়াতে। তখন আপনি বলেন আন্দোলন করা জনগণের মৌলিক অধিকার তাহলে প্রতিরোধ করা সরকারের অধিকার এবং কর্তব্য। তাই না? হেফাজতে ইসলাম যদি একটা অরাজনৈতিক সংগঠন হয় তাহলে কেন তারা রাজনৈতিক দলের মত আচরণ করে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলে জ্বালাও পোড়াও করে। তাদের যদি কোনো দাবি থাকে তাহলে তারা সরাসরি কেন রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে সাক্ষাৎ করে কথা বলেন না? হেফাজতে ইসলামের নেতারা যতবার প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করেছেন তারা নিজেই সংবাদ সম্মেলনে বিবৃতি দিলেন প্রধানমন্ত্রী একজন অমায়িক ও উদার মনের মানুষ এবং তিনি আলেমদের অনেক সম্মান করতে জানেন। এবং আপনারাই খুশি হয় উনাকে কওমি জননী বলে উপাধি দিলেন। এখন আসি মোদি বিরোধী আন্দোলন নিয়ে যে আন্দোলনে ১৭ টা তাজা প্রাণ মা-বাবার বুক খালি করে এবং পরিবার ও আত্মীয় স্বজনকে শোকাহত করে শহীদ হয়েছিল। যার ফলে দেশের প্রত্যেকটা স্থানে হরতাল জ্বালাও-পোড়াও ও নাশকতার সৃষ্টি  হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে মামুনুল হক সাহেব এবং হেফাজতের নেতারা ঘোষণা দিলেন কোন প্রকার আন্দোলন ও নাশকতা হেফাজতে পক্ষ থেকে হয় নাই। আপনাদের প্রেস-ব্রিফিং থেকে অন্তত পরিস্কার বুঝা গেল হেফাজত কোন প্রকার আন্দোলন করে নাই।   এখানে আমার প্রশ্ন তাহলে এই ১৭ জন লোক কি করে শহীদ হলো? এবং তারা কোন দলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল? ওরা কি হেফাজতে ইসলামের লোক ছিল না? আপনারা মোদি বিরোধী আন্দোলন করার আগে একবার বুঝা উচিত ছিল যে বাংলাদেশ সরকার ব্যক্তি হিসেবে মোদিকে বাংলাদেশ আসার জন্য দাওয়াত দেয় নাই। নরেন্দ্র মোদি হচ্ছে ভারতের রাষ্ট্রপ্রধান। সে ভারতের অ্যাম্বেসেডর হিসেবে এসেছে। ব্যক্তি হিসেবে আমি নিজেও নরেন্দ্র মোদিকে ঘৃণা করি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর আনন্দ উৎসব পালনের জন্য সুবর্ণ জয়ন্তী প্রোগ্রাম বিগত কয়েক বছর ধরে প্লান হচ্ছে। এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান কে কয়েক বৎসর আগে থেকেই দাওয়াত দিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ সরকার। আপনি হুট করে চাইলেই একটা দেশের প্রতিনিধি কে  দুদিন আগে না আসার জন্য অনুরোধ করতে পারবেন না। কারণ এর ফলে ভারতের সাথে বাংলাদেশের  রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে সমস্যা দেখা যেতে পারে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পারষ্পরিক শিষ্টাচারের বিযয়টি খুবই জরুরী। আভ‍্যন্তরিন অপরাজনীতির  কারনে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে দেশের সুনাম নষ্ট হোক,এমন তৎপরতা কোন দেশপ্রেমিক নাগরিকের কাছে প্রত‍্যাশিত নয়।কেননা রাষ্টের প্রতি আনুগত‍্য থাকা প্রত‍্যেক নাগরিক ও প্রতিষ্টানের সাংবিধানিক দায়িত্ব।দল মত নির্বিশেষে আমাদের সবাইকে এ ব‍্যাপারে সজাগ ও সুদৃষ্টি রাখতে হবে।

লেখক, সুইডেন প্রবাসী