পাটলী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ৫ প্রার্থী, বিএনপি সংকটে

পাটলী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ৫ প্রার্থী, বিএনপি সংকটে


তাজউদ্দিন আহমদ :: 

আগামী মার্চ-এপ্রিলে দেশব্যাপী হতে পারে  ইউনিয়ন  পরিষদ  নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতিমধ্যে মাঠে নেমে পড়েছেন। পরোক্ষ-প্রত্যক্ষভাবে নানা কৌশলে জানান দিচ্ছেন প্রার্থীতার। যার হাওয়া লেগেছে প্রবাসী অধ্যূষিত জগন্নাথপুরে। উপজেলার গ্রামাঞ্চলসহ স্থানীয় হাট-বাজারে শুরু হয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা। 

সাধারণ ভোটারদের কাছে যাওয়ার আগে রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মোকাবেলা করতে হবে নিজ দলের একাধিক প্রার্থীকে। তবে প্রচারণা একবারে থেমে নেই। তারা কৌশলী প্রচারণা পাশাপাশি নৌকা ও ধানের  শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে নিজ দলেল উপজেলা ও জেলা নেতাদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টাও করছেন। 

জগন্নাথপুর উপজেলার প্রবাসী অধ্যূষিত পাটলী ইউনিয়নেও বইছে নির্বাচনী হাওয়া। এই ইউনিয়নের প্রতিটি নির্বাচনেই একাধিক প্রবাসী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এবারও এর ব্যতিক্রম হচ্ছেনা। আসন্ন নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য প্রবাসী প্রার্থীর দেশে থাকা তাদের  আত্মীয়স্বজনও  দলীয়  নেতাকর্মীর সঙ্গে  যোগাযোগ  বাড়িয়ে দিয়েছেন। এছাড়া এলাকায় পোস্টার, বিলবোর্ড, ফেস্টুন লাগানোর পাশাপাশি লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। চলছে ভার্চুয়াল আলাপ-আলোচনা। 

গত নির্বাচনে পাটলী ইউনিয়ন সাবেক চেয়ারম্যান জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ  সদস্য মো. আঙ্গুর  মিয়া আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা নিয়ে প্রার্থী হন। তার নিকটতম  প্রার্থী ছিলেন জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বিদ্রোহী প্রার্থী সিরাজুল হক। বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে উপজেলা ও ইউনিয়নের একাংশ নেতাকর্মী গোপনে সমর্থন দিলে  সামান্য ভোটের ব্যাবধানে নৌকার প্রার্থী আঙ্গুর মিয়া বিদ্রোহী প্রার্থী সিরাজুল হকের নিকট হেরে যান।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনয়নে নৌকা চাইবেন জন প্রার্থী। বিএনপির মনোনয়নে ধানের শীষ প্রতীকে এখন পযন্ত কারো নাম শোনা যাচ্ছে না।  তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রবাসী সাবেক মেম্বার  ছদরুল ইসলাম ছুফি মিয়া শেষ পর্যন্ত ধানের শীষ  প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী হওয়ার সম্ভবনা বেশী। 

এই ইউনিয়নেও আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। কিন্তু বিএনপির একজন প্রার্থীও এখন পযর্ন্ত নেই। সে জন্যে আওয়ামী লীগে, আওয়ামী লীগে ভোটযুদ্ধ হতে পারে। 

পাটলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের প্রত্যাশায় যারা নৌকা চান তারা হলেন  জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান  সিরাজুল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের  সদস্য সাবেক চেয়ারম্যান আঙ্গুর মিয়া, সাবেক  ছাত্র নেতা যুক্তরাজ্য প্রবাসী শাহ মো. আবুল কাহার রাসেল, পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ নেতা আনা মিয়া, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রিয়াজ আলম আনছারী, বিএনপির ঘরানার সাবেক মেম্বার ছদরুল ইসলাম ছুফি মিয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী এনামুল হক ও আব্দুল হাই।

গত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি  সিরাজুল হক জানান, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য দলীয় মনোনয়ন চাইব। 

গত নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সাবেক চেয়ারম্যান আঙ্গুর মিয়া জানান, গত নির্বাচনে বিশ্বাসের মধ্যে অবিশ্বাসী কাজ হওয়ায় নৌকার ভরাডুবি  হয়েছিল এবার নৌকা  পেলে এমন কোন অঘটন করার সুযোগ দেয়া হবে না। জনগনের পাশে আছি পাশে থেকে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করব ইনশাআল্লাহ।  

যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার সিটি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক, জগন্নাথপুর ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. আবুল কাহার রাসেল, আওয়ামী পরিবারের সন্তান হিসেবে আসন্ন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি জানান, তার পিতার অসম্পুর্ণ কাজ সম্পন্ন করতেই নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান। 

পাটলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শফিক  মিয়া জানান, এখনো কোন প্রার্থীর কথা শুনছিনা। প্রার্থী দিয়ে কি লাভ। ভোটারদের ভোট প্রয়োগের নিশ্চয়তা যেখানে নাই। নির্বাচন ঘোষণা হলে প্রার্থীর ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করা হবে।

পাটলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জমশেদ মিয়া তালুকদার জানান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের একাধিক প্রার্থী নৌকা চান। কিন্তু নৌকার মাঝিতো একজন  হবেন। সবাই তো মাঝি হতে পারবে না। দলের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে আমরা কাজ করে যাব। দল যাকে মনোনয়ন দিবে তার পক্ষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।