সিলেটের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

জগন্নাথপুরে রাস্তা সংস্কারের দাবীতে ধর্মঘট, সাধারণ জনগণের সতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ

জগন্নাথপুরে রাস্তা সংস্কারের দাবীতে ধর্মঘট, সাধারণ জনগণের সতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ

জগন্নাথপুর অফিস:
দীর্ঘ কয়েক বছর থেকে সংস্কারহীন জগন্নাথপুর-সিলেট (জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ) সড়কে সংস্কারের দাবিতে অচল হয়ে পড়েছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা।
আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি উপজেলা সদরে রিকশাও চলাচল করেনি। বিভাগীয় শহর সিলেটের সঙ্গে যাতায়াতরক্ষা রক্ষাকারী জগন্নাথপুরের প্রধান সড়ক জগন্নাথপুর-সিলেট (জগন্নাথপুর-বিশ্বনা-রশিদপুর) ও জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান সড়ক জগন্নাথপুর-সুনামগঞ্জ সড়কসহ জগন্নাথপুরের অভ্যন্তরিক সড়কগুলোতে যান যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে থাকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন উপজেলাবাসী। ফলে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন জনসাধারণ।
দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্ট, জগন্নাথপুর-সিলেট বাসস্ট্যান্ড, ইকড়ছই এলাকা, হাসপাতাল পয়েন্টসহ জগন্নাথপুরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে শ্রমিকরা পিকেটিং বসায়। শ্রমিকদের বাঁধা কারণে কোন প্রকার যান চলাচল করতে পারেনি। এমনকি মালামাল বহণকারী যানবাহনও চলাচল করতে দেয়া হয়নি। শহরে রিকশাও চলাচল বন্ধ ছিল। প্রয়োজনের তাগিতে বাহিরে বের হওয়া লোকজন পায়ে হেঁটেই চলাচল করতে হয়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি ও এলাকাবাসী জানায়, সিলেট বিভাগীয় শহরসহ ঢাকার রাজধানীর সঙ্গে জগন্নাথপুর ও সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার কয়েকলাখ মানুষ জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ-রশিদপুর সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে আসছেন। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহালদশা বিরাজ করে আসছে। 
ধর্মঘটে স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যাহত হলেও সাধারণ জনগন সতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেছেন। 
গত বছরের শেষের দিকে জগন্নাথপুর অংশের ১৩ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ২৫ কোটি টাকার টেন্ডার আহবান করা হলে কাজটি পায় মাদারীপুরেরর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হামীম সালেহ (জেভি)। চুক্তি অনুয়ায়ী গত ফেব্রæয়ারি মাসের ১০ তারিখ থেকে সড়কে কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও মার্চের প্রথম দিকে কাজ শুরু হলে করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাব দেখা দেওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় সড়কের কাজ। সম্প্রতিকালে সড়কের নাজুক অবস্থায় সৃষ্টি হয়। এমতাবস্থায় সংস্কারের দাবিতে জগন্নাথপুর উপজেলা পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দেয়।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি নিজামুল করিম জানান, সংস্কারের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার আমাদের বিভিন্ন কর্মসুচী প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে সড়কে বেহাল দশা বিরাজ করছি। তাই বাধ্য হয়ে আমরা কর্মসুচী দিয়েছি। প্রায় ৬ মাস ধরে সড়কের কাজ বন্ধ রয়েছে। আমাদের কর্মসুচীকে বানচাল করতে গত সোমবার দুই তিনজন শ্রমিক দিয়ে সড়কের একাংশ কাজের নামে নাটক করা হচ্ছে। দ্রæত সঠিকভাবে সড়কে কাজ না করা হলেও আমাদের আন্দোলন চলবে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার সাকলাইন হোসেন জানান, করোনা ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে সংস্কার কাজ ব্যাহত হয়েছে। তবে কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) গোলাম সারোয়ার বলেন, সড়কের কাজ চলছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান বলেন, আন্দোলনকারীদের দাবীর প্রেক্ষিতে আমরা সড়কের গর্ত ভরাটের কাজ গত দুইদিন ধরে শুরু হয়েছে। তারপর কর্মসুচীতে ডাকা খুবই দুঃখজনক।  
জগন্নাথপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আফরোজ আলী জানান, দীর্ঘ দিন ধরে আমাদের এই প্রধান সড়কটি সংস্কার না করায় আমরা জীবনের ঝুকি নিয়ে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করছি। এলাকার অনেক অসুস্থ রোগী আছেন যারা সিলেট শহরে গিয়ে ডাক্তার দেখান, কিন্তু রাস্তার বেহাল দশার কারণে তারা সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।