এক জামানে কাঁপছে সিলেট বিএনপি!

এক জামানে কাঁপছে সিলেট বিএনপি!

ব্রেকিংস ডেস্ক:

 

 
জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের নবঘোষিত আহবায়ক কমিটি নিয়ে উত্তাপ বাড়ছে ছাড়া কমছে না সিলেটে। একের পর এক পদত্যাগে সিলেট বিএনপি এখন যেন কাঁপছে। শনিবারও (২৮ আগস্ট) ঘোষণা দিয়ে পদ ছেড়েছেন নবগঠিত কমিটির দুই নেতা।

এমন পরিস্থিতিতে আগামী সোমবার (৩০ আগস্ট) সিলেটে বিএনপির বড় একটি অংশ জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। এই সংবাদ সম্মেলনে কী বলবেন বিএনপির এসব নেতা, সোমবার ‘ক্ষোভের বিস্ফোরণ কতটুকু ঘটবে- এসব বিষয় নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে কৌতুহল।

গত ১৭ আগস্ট সিলেট জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেয় দলটির কেন্দ্রীয় সভাপতি-সম্পাদক। কমিটিতে জেলা শাখার আহ্বায়কের দায়িত্ব পান আব্দুল আহাদ খান জামাল, সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা দেওয়ান জাকির হোসেন খান।

মহানগর শাখার আহ্বায়ক হিসেবে আব্দুল ওয়াহিদ সুহেল ও সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আজিজুল হোসেন আজিজ।

নিজেদের বলয়ের নেতারা কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়ায় এই কমিটি নিয়ে ক্ষুব্ধ জেলা বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা। কমিটি ঘোষণার পরদিনই বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক সামসুজ্জামান জামান পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ওই দিনই দলের মহাসচিব বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি।

পদত্যাগপত্রে তিনি অভিযোগ করেন, সহ-স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক হওয়ার পরও তার সঙ্গে আলোচনা না করেই জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ কারণে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা-কর্মীরা বাদ পড়েছেন।

জামানের দল ছাড়ার পরপরই যেন সিলেট বিএনপির অঙ্গ-সংগঠনে পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। তাঁর পথ ধরে ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির অন্তত ১৫ জন নেতা। এছাড়াও নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড, জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর কমিটির শতাধিক নেতাকর্মী ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। এমন নজিরবিহীন গণপদত্যাগ অতীতে কখনো সিলেট বিএনপি পরিবারে দেখা যায়নি। রাজনৈতিক বোদ্ধারা মনে করছেন- সামসুজ্জামান জামান যেন একাই কাঁপিয়ে দিচ্ছেন সিলেট বিএনপিকে!

এমন অবস্থায় গুঞ্জন ওঠেছে- আগামী সোমবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সিলেট বিএনপির একাংশের অনেক নেতাকর্মী পদত্যাগ করবেন।

তবে দলীয় আরেকটি সূত্র বলছে- ওই সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামানকে দলে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে হাই কমান্ডের প্রতি অনুরোধ জানানো হবে এবং দাবি না মানলে পরবর্তী সিদ্ধান্তের বিষয়েও সাফ জানিয়ে দেয়া হবে।

এসব বিষয়ে জানতে কথা হয় সিলেট জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন লস্করের সাথে। তিনি বলেন, ‘এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেব কী করবো। সোমবার আমাদের সিদ্ধান্ত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে।’

জানা গেছে, স্বেচ্ছাসেবক দলের ঘোষিত কমিটি নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, তৃণমূল নেতৃবৃন্দের পদত্যাগসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিএনপির নেতাদের নিয়ে এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয় গত বৃহস্পতিবার।

সভায়, সিলেটের বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করেন নেতৃবৃন্দ। আলোচনা শেষে বিস্তারিত বিষয়া তুলে ধরতে আগামী সোমবার বিকাল ৩টায় নগরীর একটি হলরুমে ওই সংবাদ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নেন নেতৃবৃন্দ ।

অনুষ্ঠিত সভায় সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি শেখ মখন মিয়ার সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা সেলিম আহমদ, মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি সুদ্বীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু, মহানগর বিএনপির তাঁতী বিষয়ক সম্পাদক ফয়েজ আহমদ দৌলত, সহ তাঁতী বিষয়ক সম্পাদক শওকত আলী, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও বর্তমান আহবায়ক কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন লস্কর, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও বর্তমান আহবায়ক কমিটির সদস্য ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী, মহানগর বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মিনহাজ উদ্দিন মুসা, জেলা বিএনপির সাংষ্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা জাসাসের আহবায়ক জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আহমদ রানু, জেলা তাঁতীদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ জয়নুল হক, বিএনপি নেতা আব্দুল গফফার, জেলা বিএনপির সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মতিউল বারী খুর্শেদ, মহানগর জাসাসের সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন আহমদ মাসুম, জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক রায়হান এইচ খান, মহানগর বিএনপির সহপ্রচার সম্পাদক কাউন্সিলর আব্দুর রকিব তুহিন, জেলা বিএনপির সহস্বেচছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক বেলাল ও বিএনপি নেতা খসরু মিয়া প্রমুখ।

এদিকে, অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামানসহ তাঁর অনুসারী নেতাকর্মীদের পদত্যাগকে বড় ফ্যাক্টর মনে করছেন না সিলেট বিএনপির মূল অংশ। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার এ বিষয়ে বলেন, জামানের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত। তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা। তার পদত্যাগে সিলেট বিএনপিতে কোনো প্রভাব পড়বে না।

তিনি বলেন, পদত্যাগের আগে জামান কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারতেন। এভাবে পদত্যাগ করা উচিত হয়নি।