এই ভাষ্কর্য থাকবে

এই ভাষ্কর্য থাকবে

মোহাম্মদ হরমুজ আলী

ভাষ্কর্য ভাঙতে চাও? জাতির জনকের??
অহ, তুমিতো আবার জনক মানো না 
যেনে যাও- আমিও তোমাকে মানিনা।
প্রতিমা আর ভাষ্কর্যে তফাৎ বুঝোনা!
অসুবিধা নাই - আমি বুঝি।

এখানে কিছুই ছিলো না শুধু বুটের খটখট আওয়াজ ছাড়া
এই বুটের তলায় পিষ্ট হয়েছে লাখো নর-নারী
বছরের পর বছর - ২৪ বছর
তুমি নির্বিকার থেকেছো
আহ্লাদে ঘাতকের বুট পালিশও করেছো 
রাতের গভীরে আমার বোনকে পাঠিয়ে দিয়েছো সেই বুট ওয়ালার কাছে
দেয়ালে কান পেতে শুনেছো ধর্ষিতার গোঙানি
তুমিও কি সুখ নিতে বিকৃত উল্লাসে!

এই স্বাধীনতায় 
এই শৃঙ্খলমুক্তির দহন আর রক্তের হুলিতে
বিবসনা মায়ের আহাজারিতে 
ছিন্নভিন্ন আমার ছোট্ট সোনামণি বোনের বুকফাটা চিৎকারে
সেদিন আল্লাহর আরশ কেঁপে কেঁপে উঠেছে 
তোমাকে পাইনি পাশে;

এই ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল যেদিন ফুঁসে উঠেছিল ঘেন্নায়, প্রতিশোধে, শৌর্যের বৈভবে ...
তুমি ছিলেনা
বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ যেদিন দ্বারেদ্বারে ঘুরেছে বিশ্বমানবতার - একটু নির্ভরতার আশায়
সেই পুরোটা সময় জুড়ে তুমি ছিলে ঘাতকের পক্ষে
বুট পালিশে, অবলা সাপ্লাইয়ের কাজে! 

সেদিনও তুমি দোহাই দিয়েছো ধর্মের 
আমার মাকে তুমি গনিমতের মাল আর বোনকে হালাল বলে ফতোয়া দিয়েছো
তোমার কুটিল ফতোয়ায় কেঁদে উঠেছে সম্ভ্রমহারা বাংলার জমিন। 

এই ভাষ্কর্য ৭ই মার্চ হয়ে কাঁপন ধরাবে ঘাতকের বুকে
এই ভাষ্কর্য ২৬শে মার্চ হয়ে জানান দেবে নবজাতকের হুঙ্কার 
এই ভাষ্কর্য ১০ই জানুয়ারিতে নিয়ে আসবে প্রশান্তির বারতা
এই ভাষ্কর্য দেবে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গনতন্ত্রের পথে হাঁটার দৃপ্ত উন্মেষ
এই ভাষ্কর্যই ঢাল হবে দুরাচার সময়ে
এই ভাষ্কর্যে নমিত হবে আগামীর বাংলাদেশ শ্রদ্ধায়-ভালোবাসায়।

লন্ডন, ০১ ডিসেম্বর ২০২০