আসছে পূজা, ব্যস্ততায় শায়েস্তাগঞ্জের প্রতিমা শিল্পীরা

আসছে পূজা, ব্যস্ততায় শায়েস্তাগঞ্জের প্রতিমা শিল্পীরা

ব্রেকিংস ডেস্ক:

দুয়ারে কড়া নাড়ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। দুর্গোৎসবকে ঘিরে চলছে নানা প্রস্তুতি। পূজার কেনাকাটা এখনও পুরোপুরি শুরু না হলেও চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। সর্ববৃহৎ এই উৎসবকে সামনে রেখে এখন প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শায়েস্তাগঞ্জের প্রতিমা শিল্পীরা।

সরেজমিনে, শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার পূর্বলেঞ্জাপাড়ার পূজা মণ্ডপে গেলে দেখা যায় শিল্পীরা প্রচুর ব্যস্ত সময় পার করছেন। গুটিকয়েক মণ্ডপে মূল প্রতিমা তৈরি শেষ হয়ে গেছে। এখন চলছে রংতুলির আঁচড়। তবে বেশিরভাগের মণ্ডপে চলছে কাঠামো তৈরির কাজ। যা এখন শেষ পর্যায়ে। কাঠামো তৈরি হয়ে গেলেই শুরু হবে রংতুলির কাজ। তবে সবকিছুই চলছে বেশ জোরেশোরে।

একজন ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পী রথীন্দ্র পাল। যিনি সহযোগীদের নিয়ে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইতোমধ্যেই করা হয়েছে দুর্গার কাঠামো। একাগ্রচিত্বে খড় আর কাদামাটির মিশ্রণে দুর্গার পূর্ণ অবয়ব দিয়ে যাচ্ছেন।

এছাড়াও শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন পূজা মন্ডপ ঘুরে দেখা যায়, কাদা-মাটি, বাঁশ, খড়, সুতলি দিয়ে প্রতিমা তৈরিতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা কারিগররা। ব্যস্ততার এ চিত্র চোখে পড়ে প্রায় সব প্রতিমালয়ে।

কথা হয় প্রতিমাশিল্পী রথীন্দ্র পালের সঙ্গে। তিনি জানান, সময়ের সঙ্গে প্রতিমার গড়নেও এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। তাই প্রতিমাশিল্পীদের অনেক বেশি সচেতন থাকতে হয়। মাথায় রাখতে হয় মন্দিরের ঐতিহ্য ও সাজসজ্জার বিষয়টি। সেভাবেই ফুটিয়ে তুলতে হয় প্রতিমার অবয়ব।

তিনি আরও জানান, অন্যান্য বছর ১০-১২টি প্রতিমা তৈরী করলেও এই বছর ৭টি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির পেয়েছেন। তিনি এবার আকার বেধে প্রতিটা প্রতিমায় ১৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিচ্ছেন।

এবারের সনাতনী পঞ্জিকা অনুযায়ী ১১ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথি দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ১২ অক্টোবর মহাসপ্তমী পূজার মাধ্যমে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল আচার-অনুষ্ঠান। এছাড়া ১৩ অক্টোবর মহাঅষ্টমী এবং ১৪ অক্টোবর মহানবমী পূজা। ১৫ অক্টোবর বিজয়া দশমী হবে। এ দিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসবের সব ধরণের আনুষ্ঠানিকতা।

এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুমন চন্দ্র দেব জানান, গত বছর শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় ১৮ মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হলেও এই বছর কতটিতে হবে তা এখন পর্যন্ত নির্ধারিত হয়নি। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পুজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে।

তিনি বলেন- ‘এবার যেহেতু করোনা সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, আমরা আশা করছি স্বাভাবিকভাবেই পুজা উদযাপন করতে পারব।’