আজিজুস সামাদ ডন : যেন এক কালজয়ী কিংবদন্তি বাবার প্রতিচ্ছবি

আজিজুস সামাদ ডন : যেন এক কালজয়ী কিংবদন্তি বাবার প্রতিচ্ছবি

শাকির আলম কোরেশী :


জননেতা ডন, মরহুম জনাব সামাদ আজাদ তনয় আজিজুস সামাদ আজাদ ডন অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস‍্য মনোনীত হয়েছেন। জাতীয় রাজনীতিতে বৃহত্তর সিলেটের অবিসাংবাদিত নেতা, স্বাধীন বাংলার প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় নেতা জনাব আব্দুস সামাদ আজাদ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মাত্র আটারো বছর বয়সেই সুনামগঞ্জ মহকুমা মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতির পদ গ্রহনের মাধ‍্যমে সক্রিয় ছাত্র রাজনীতিতে অভিসিক্ত হন। অনেকটা প্রতিকূল পরিবেশে দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় পয়ষট্টি বছরের রাজনৈতিক ক‍্যারিয়ারের অধিকারী জনাব সামাদ আজাদ চুয়ান্ন থেকে আমৃত‍্যু জগন্নাথপুর ও দক্ষিন সুনামগঞ্জের এমপি হিসেবে কখনো সরকারি দল আবার কখনো বিরোধী দল থেকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। অবশ‍্য এক মেয়াদে স্বাধীনতার পর তেহাত্তরে দেশের প্রথম সংসদ নির্বাচনে দুটি আসনে এমপি নির্বাচিত হলে রাজনৈতিক কারণে দিরাই-শাল্লা আসন রেখে জগন্নাথপুরে উপনির্বাচনের মাধ‍্যমে নব নির্বাচিত সুনামগঞ্জ মহকুমা আওয়ামীলীগের সভাপতি মরহুম এডভোকেট আব্দুর রইছ সাহেবকে এম,পি নির্বাচিত করে নিয়ে আসেন।

জনাব সামাদ আজাদ তনয় ডনকে কিংবদন্তির দ্বিতীয় সংস্করন বলার অবশ‍্যই একটি যৌক্তিক কারন রয়েছে। জন্ম ও বেড়ে উঠা ঢাকায় হলেও  পৈত্রিকসূত্রে ডন জগন্নাথপুর বা ভূড়াখালীর সন্তান হিসেবে নিজেকে খুব সহজেই আপামর জনগনের মনে জায়গা করে নিয়েছেন এবং এ পরিচয়টি তার জীবনের ব্রতী হিসেবে সব জায়গায় তুলে ধরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। দীর্ঘ সত্তোর বছর রাজনীতি করা জাতীয় নেতার উত্তরাধিকারী হলেও সামাদ সাহেবের জীবদ্দশায় রাজনীতিতে কিন্তু আজিজুস সামাদ ডন দলীয় কোন সুযোগ সুবিধা গ্রহন করেননি। এমনকি বাবার পরিচয় ব‍্যবহার করে কোন ধরনের তদবির বানিজ‍্য বা অসৎ ব‍্যবসা বানিজ‍্য করেছেন বলে সামাদ সাহেবের ঘোর বিরোধীরাও কখনো কানাঘুষা করেছেন বলে শুনিনি। চিলাউরা-হলদিপুর ইউনিয়নের একটি প্রত‍্যন্ত অঞ্চল ভূড়াখালি এমন একটি অজপাড়া যেখানে একটি হাইস্কুল পর্যন্ত নেই, এমন এক রিমোট এলাকার বনেদি কৃষক পরিবার থেকে উঠে আসা চল্লিশ দশকের এক তরুন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি বাঁকে নিজেকে নেতৃত্বের আসনে প্রতিষ্টিত করে সময়ের পরিক্রমায় একজন জাতীয় নেতার সম্মানে ভূষিত হন। এমন একজন ক্ষমতাবান বাবা চাইলেই অন‍্যান‍্য অনেক নেতার মতোই অন্তত তার কোন এক ছেলেকে নিজের জীবদ্দশায় আওয়ামীলিগের কোন কমিটিতে জায়গা করে দিতে পারতেন। অথচ জীবন সংগ্রামে জয়ী হওয়া ভাটিবাংলার অবিসাংবাদিত নেতা সকল ধরনের পারিবারিক স্বেচ্ছাচারিতার মাপকাঠিতে উত্তীর্ন হওয়া বরেণ‍্য রাজনীতিক জনাব সামাদ আজাদ কোন কালেই সে রকম কোন চেষ্টাই করেননি। বরংচ লানচিং অব লিডারশীপ প্রবর্তনের ক্ষেত্রে রাজনীতির যথারীতি নিয়মকেই প্রধান‍্য দিয়েছেন এবং অযাচিতভাবে রাজনীতিতে উত্তরাধিকার সেটেল করার প্রশ্নে বা ব‍্যবসায়িক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার স্বার্থে পরিবারের কাউকেই জীবনের শেষদিন পর্যন্ত কোন ধরনের বির্তকের বেড়াজালে কখনো জড়াতে দেননি।

আকস্মিকভাবে অতি সম্প্রতি আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস‍্য হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ার পর সিলেট বিভাগে ডন সামাদের সাম্প্রতিক বিচরনের ধরন যেন সামাদ সাহেবের প্রতিচ্ছবির কথাই মানুষের মনে উকিঁ দিচ্ছে। ডনের যে গুনটি দলীয় কর্মীদের উজ্জীবিত করেছে তা হচ্ছে তৃনমূলের প্রান্তিক মানুষকে সহজেই আপন করে নেওয়া, যা আমাদের জাতীয় নেতা জনাব সামাদ সাহেবের মধ‍্যে অত‍্যন্ত প্রকট ছিল। খুব ছোটকাল থেকে নিজেই দেখেছি যখন সৈয়দ পুরে আসতেন বিশেষ করে আত্বীয়তার সুবাদে কোরেশী বাড়িতে রাত্রীযাপন কালে সামাদ সাহেব নিজের কাছাকাছি বয়েসি সকল মুরুব্বীদের খুঁজ করে ডেকে নিয়ে আসতেন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের পিছনের সারিতে বসিয়ে তাদের সাথেই খোশগল্পে মিলিত হতেন। এই রকম সৌহার্য‍্যপূর্ন সম্পর্ক দলমত নির্বিশেষে তার নিজের এলাকার প্রতিটি গ্রামের উল্লেখযোগ‍্য সকল মুরুব্বীদের সাথে আমৃত‍্যু বজায় রেখেছেন। গুনি বাবার সন্তান জনাব আজিজূস সামাদ ডন যেন কোন এক অজানা কারিশমা দ্বারা এক ধাপ এগিয়ে তৃনমূলের কর্মীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছেন। জগন্নাথপুর-দক্ষিন সুনামগজ্ঞে যারা রাজনীতির অন্তরালে ব‍্যবসা বানিজ‍্যের ধান্ধা পোষন করে না , বরং দলকে অনন‍্য উচ্চতায় ভালবাসে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারন করে, এমন কর্মীদের আকুন্ঠ আস্থা অর্জন করতে সামর্থ হয়েছেন আজিজুস সামাদ ডন। কৌশলগত কারনে দলীয়ভাবে আওয়ামীলীগ নির্বাচনে অংশ না নিলেও মান্নান সাহেবের প্রতি কেন্দ্রের অনানুষ্টানিক সমর্থন থাকায় জগন্নাথপুর -দক্ষিন সুনামগঞ্জের নেতৃবৃন্দ মান্নান সাহেবকে বিজয়ি করতে মরিয়া হলেও তৃনমলের কর্মীদের অবস্থান ছিল ভিন্ন। নির্বাচনে কেন্দ্রের কোন নিষেধাজ্ঞা না থাকায় এবং দলে কোন পদ-পদবী ছাড়াই স্বতন্ত্র  প্রার্থী হিসেবে জীবনের প্রথম সংসদ নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল‍্য দেখিয়েছিলেন আজিজুস সামাদ ডন। জগন্নাথপুরকে জার্মানির হ‍্যামিলটন নগরীর আবহে হাতে ফুটবল নিয়ে নির্বাচনী প্রচারনায় যেদিকেই হেটেছেন সাধারন জনগন যুবক তরুনরা দলবেধেঁ হ‍্যামিলিয়নের বাশিওয়ালার মতো যেন তার পিছু নিয়েছিল। তাদের নির্বাচনি বিজয় ছিনতাই হয়েছিল কর্মীদের এমন দাবী মোটেই অমূলক ছিলনা। যা জেলা আওয়ামীলিগের অন্তর্দন্দ্ব পরবর্তীতে প্রকাশ‍্যে মাথাচারা দিলে বিষয়টির সত‍্যতা দূর্ভাগ‍্যজনকভাবে বেড়িয়ে আসে। বিগত নির্বাচনেও দলের কাছে নৌকা পেতে শক্ত প্রার্থী হিসেবে আবির্ভিত হন সামাদ পুত্র ডন। নাম ঘোষনার দিন পর্যন্ত একটা পরিষ্কার গুঞ্জন ছিল সুনামগঞ্জ-৩ আসনে এবার নৌকার কান্ডারি হচ্ছেন ডন সামাদ। ভাগ‍্য যেন আবারও অমাবস‍্যার কবলে। ব‍্যর্থ হলেন কেন্দ্রের সুদৃষ্টি লাভে। বাবার অনুকূলে খোলা চিঠি লিখলেন।ক্ষমা করো বাবা, তোমার নৌকায় এবারও উঠতে পারিনি বলে প‍্যাভিলিয়নে ফিরে গেলেন। মনোক্ষুন্ন হওয়াই স্বাভাবিক। প্রতিক্রিয়া যা এতটুকুই। বুদ্ধি মানের মতোই অযাচিত ভাবে কর্মীদের নিয়ে যখন তখন আর মাঠ গরম করার চেষ্টা করেননি। হিংসাত্বক রাজনীতির চর্চা হতে পারে অথবা পরোক্ষভাবে নিজের কর্মীদের হেনস্থা করা হতে পারে এই আশংকায় এলাকায় আসা যাওয়াই কমিয়ে ফেলেন। জগন্নাথপুরে এ ধরনের চর্চা অতীতে কখনো ছিল বলে কারো স্মৃতিতে আছে বলে মনে হয়না। যারা দলকে টাকার মেশিন ভাবেন, নেতাকে বস ও রাজনীতিকে চাকুরী মনে করেন, এমন নেতারাই তো ভিডিপি ও আনসার সদস‍্যের মতো সিঞ্জেল লাইনেই বসের শানে মার্চ করেন। নাহলে যেখানে স্বয়ং শেখ হাসিনা ডনকে কেন্দ্রিয় কার্যনির্বাহী সদস‍্য মনোনীত করেছেন , সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ডেকে নিয়ে  নেত্রীর স্বাক্ষর করা নির্বাহী সদস‍্যপদের কাগজ হাতে ধরিয়ে দেওয়ার পরও কোন কিবলার জোড়ে উপজেলা নেতৃবৃন্দ একজন কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস‍্যকে উপেক্ষা করে।
অতি নিকট অতীতে সিলেটে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস‍্য হিসেবে ডনের আগমনকে ঘিরে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের মধ‍্যে যে উচ্ছাসা দেখা গেছে তাতে সিলেট আওয়ামীলীগকে অন‍্য যেকোন সময়ের তুলনায় নতুন মাত্রায় উচ্ছেসিত মনে হয়েছে। অনেক দিন পরে সোসাল মিডিয়া ও ডনের বদৌলতে প্রাক্তন জেলা সভাপতি আবু নছর চৌধুরী সাহেবকে দেখার সুযোগ হল। না হলে তো ভূলেই গিয়েছিলাম এ ভদ্রলোক এখনো হায়াতে জীবিত আছেন।বাবার অত‍্যন্ত বিশ্বস্থ ত‍্যাগী ও সৎ এ রাজনীতিবিদের দোয়া নিতে ডন সামাদ তার বাসায় গিয়েছিলেন।বর্তমান রাজনীতিতে বয়োজ‍্যেষ্ট বা অবসরে যাওয়া রাজনীতিবিদ নেতাদের খোঁজ নেওয়ার প্রবনতা যেন দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। মরহুম জননেতা আ ন ম শফিক, মরহুম মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান সহ বয়োজ‍্যেষ্ট নেতৃবৃন্দের বাসায় গিয়ে ডনের খোঁজ নেওয়ার বিযয়টি তৃনমূলের কর্মীদের কাছে অত‍্যন্ত শ্রদ্ধাবোধের জন্ম দিয়েছে।

বিজয়ের মাসে কেন্দ্রীয় কমিটিতে অভিষিক্ত হওয়া ডনের আগামী রাজনীতি যেন সুন্দর সজীব ও প্রানবন্ত হয় তৃনমূলের কর্মীদের সেটাঈ প্রত‍্যাশা। জগন্নাথপুর সহ গোটা সুনামগঞ্জের আওয়ামী রাজনীতি যেন কোন বিশেষ সমীকরনে ব্রাকেট বন্দি না হয়ে সত‍্যিকার অর্থে গণমূখী হয়, জনকল‍্যানকর হয় বিজয়ের মাসের শেষ দিনে মুজিব আদর্শের একজন শুভাকাঙ্কী হিসেবে এটাই হোক বছরের শেষ প্রত‍্যাশা।

লেখক : কলামিস্ট ও সম্পাদক, ব্রেকিংস টুয়েন্টিফোর।